জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত পরিবারের ১০ জন সদস্যের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্দোলন চলাকালে বিশেষ অবদান রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তিন জুলাই যোদ্ধাকে তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য সিএনজি অটোরিকশা এবং প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে উপহার ও নিয়োগপত্র তুলে দেন সরকারপ্রধান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা, পরিবার এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
নিয়োগপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সব আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্খা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।
রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটি বড় কথা নয়; বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
নিয়োগপত্রপ্রাপ্ত ১০ জন হলেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী, গুরুতর আহত আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং আহত জুলফিকার আলমের স্ত্রী আরজু আক্তার।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা, আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্না, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
আলাদা এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা তিন যোদ্ধার কর্মসংস্থানে সহায়তা হিসেবে একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং চারটি প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির জানান, শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টার নিয়ে বেঁচে থাকা মিরপুর বাঙলা কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ আজিজ শেখকে একটি সিএনজি অটোরিকশা উপহার দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের পানি সরবরাহ ও আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া কুষ্টিয়ার মো. গফফারকে দেওয়া হয়েছে দুটি প্যাডেল চালিত রিকশা।
অন্যদিকে কর্মসংস্থানহীন বগুড়ার ৬৫ বছর বয়সি আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশবার্তা/একে