সোয়া এক লাখ জিপিএ ৫ নিয়ে পাসের হার ৬২.২৫

জামিল আহমেদ

জাতীয়

দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিগত দিনগুলিতে অটো পাস ও জিপিএ-৫ এর সহজলভ্যতায় একটি প্রজন্ম অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রকৃত শিক্ষালাভ

2026-08-10T12:54:38+06:00
2026-08-10T13:54:04+06:00
সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬,
২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
জাতীয়
সোয়া এক লাখ জিপিএ ৫ নিয়ে পাসের হার ৬২.২৫
জামিল আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম  আপডেট: ১০.০৮.২০২৬ ১:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিগত দিনগুলিতে অটো পাস ও জিপিএ-৫ এর সহজলভ্যতায় একটি প্রজন্ম অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। প্রকৃত শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত এবং মেধা শূন্যতার পাথে ধাবিত হওয়া এই প্রজন্মকে বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী বড় দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন।    

গতকাল সকাল দশটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থেকে ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন, আর দেশের সব কটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তাঁর হাতে নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল হস্তান্তর করেন।

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী। কারিগরি বোর্ডে পাস ৫৮.২০%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ৩৯৫১। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এ বোর্ড জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৬ জন পরীক্ষার্থী। তবে কেউ পাস করেনি ১৩৪ প্রতিষ্ঠানে। এবছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। পাশাপাশি সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষায় একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা ধরা পড়েছে—যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, তাদের সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। গত বছর সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডে এমন প্রতিষ্ঠান ছিল একশ চৌত্রিশটি, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনশ বারোটিতে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে যোগ হয়েছে আরও একশ আটাত্তরটি শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠান, শতকরা হিসাবে যা প্রায় একশ তেত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি।

পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, শুধু শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানই নয়, শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও একই সময়ে কমে গেছে। গত বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডে প্রায় নয়শ চুরাশিটি প্রতিষ্ঠান থেকে সব শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ছয়শ ঊনসত্তরটিতে। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে তিনশ পনেরোটি। দুই দিক থেকেই তাই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট অবনতির চিত্র উঠে এসেছে—একদিকে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, অন্যদিকে সফল প্রতিষ্ঠান কমেছে।

সামগ্রিক ফলাফলেও একই রকম নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এবারের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে বাষট্টি দশমিক পঁচিশ শতাংশ, যেখানে গত বছর এই হার ছিল আটষট্টি দশমিক পঁয়তাল্লিশ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ছয় শতাংশীয় পয়েন্ট, যা শিক্ষাক্ষেত্রে একটি লক্ষণীয় পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও উত্তীর্ণের হারেও এই পতনের প্রভাব স্পষ্ট। এবার মোট প্রায় আঠারো লাখ ঊনত্রিশ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়, যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় এগারো লাখ আটত্রিশ হাজার জন। গত বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ঊনিশ লাখ চার হাজার, আর তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল প্রায় তেরো লাখ তিন হাজার জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থী কিছুটা কমার পাশাপাশি উত্তীর্ণের সংখ্যায়ও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে।

সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের সংখ্যাতেও পতনের ছাপ পড়েছে। এবার জিপিএ পাঁচ পেয়েছে প্রায় এক লাখ ষোলো হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ ঊনচল্লিশ হাজার। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় বাইশ হাজার তিনশ জন।

সব মিলিয়ে এবারের ফলাফল শিক্ষা খাতের সামগ্রিক মানের ক্ষেত্রে একধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যেতে পারে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি এবং শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান হ্রাস একসঙ্গে ঘটায় প্রশ্ন উঠছে পাঠদানের মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিয়ে। 


সর্বশেষ সংবাদ 

১৮ মাসে ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে ভারতের টেস্ট দলে সরফরাজ
সাতক্ষীরায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
অনুমতি ছাড়া টাবুর নাম, ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ
লক্ষ্মীপুরে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ

সর্বাধিক পঠিত 

অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সিডিএ কর্মকর্তা, ১৪ বছরেও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ
পিউরো পেস্ট্রি অ্যান্ড বেকারির ১৬তম আউটলেট উদ্বোধন
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ
এসএসসির ফল প্রকাশের এক দিন আগে না ফেরার দেশে কাজী রেজা
বাংলাদেশ সফরে মেকআপ আর্টিস্ট সেলিনা মনির
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]