দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জোরালো সম্প্রসারণ ও প্রবৃদ্ধির গতি ফেরার ইতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সে (পিএমআই)। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে পিএমআই সূচক আগের মাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫৭ দশমিক ৮-এ উন্নীত হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এমসিসিআই (মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ যৌথভাবে দেশের অর্থনীতির নতুন এই চিত্র উপস্থাপন করে পিএমআই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনীতির চারটি মূল খাতের মধ্যে তিনটিতেই ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখা গেছে। সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করেছে উৎপাদন খাত, যার পিএমআই এক মাসেই ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫ দশমিক ৪-এ দাঁড়িয়েছে। এটি গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সেবা খাতে পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৫৬ এবং কৃষি খাতে ৫৫ দশমিক ২। সেবা খাত টানা ২২ মাস ও কৃষি খাত টানা ১১ মাসের মতো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। তবে অন্য খাতগুলো এগোলেও নির্মাণ খাত এখনো সামান্য সংকোচনে রয়েছে; এ খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৩ হলেও গত জুনের চেয়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে।
উৎপাদন খাতের নতুন অর্ডার, রপ্তানি অর্ডার, কর্মসংস্থান ও পণ্য সরবরাহের গতি বৃদ্ধি পাওয়াতেই সামগ্রিক পিএমআই সূচকে বড় লাফ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।
পিএমআই সূচকের সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম মাসরুর রিয়াজ জানান, নতুন বছরের বাজেটের পর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, বহির্বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিস্থিতির উন্নতিতে ব্যবসায়িক আস্থা শক্তিশালী হচ্ছে। সব খাতেই ফিউচার বিজনেস ইনডেক্স ইতিবাচক থাকায় আগামী দিনগুলোতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের সরকারি সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্টের কারিগরি পরামর্শে এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের পিএমআই সূচক প্রণয়ন করে আসছে।
দেশবার্তা/একে