ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন নিয়ন্ত্রণে শুরু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার নজরদারি। চালু হওয়ার পর প্রথম ৩ ঘণ্টাতেই এআই ক্যামেরায় আইন লঙ্ঘনের চিত্র ধরা পড়ায় ৩৭৯টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মহাসড়কটিতে অটো ফাইন সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এআই ক্যামেরায় ধারণকৃত চিত্র বিশ্লেষণ করে এসব প্রযুক্তিভিত্তিক মামলা করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক এআই ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি কৌশলগত পয়েন্টে ১ হাজার ৪২৭টি আধুনিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট ও গতিসীমা পড়তে সক্ষম।
অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম, লেন অমান্য করা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে ই-মামলা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলার তথ্য ডিজিটাল বার্তা (এসএমএস) হিসেবে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রাজধানীতে আধা-স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হলেও দেশে এই প্রথম কোনো দীর্ঘ মহাসড়কে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা চালু করা হলো।
এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ১৮ আগস্ট থেকে মহাসড়কে গতিসীমা লঙ্ঘনসহ অন্যান্য অপরাধে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ই-মামলা প্রদান শুরু হবে। আজ থেকে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো। মামলার নোটিশ পাওয়ার পর যানবাহন মালিকরা নগদ কিংবা বিকাশের মতো ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
দেশবার্তা/একে