সিলেটে নারীদের জন্য পৃথক বাস ও বিশেষ পরিবহন সেবা চালুর উচ্চপর্যায়ের ঘোষণা দেওয়ার সাত বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একই ধরনের সেবা চালু হলেও সিলেটে তা কেবলই কাগজে সীমাবদ্ধ থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্প সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুনের মাঝামাঝি সময়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিএ এবং বিআরটিসির যৌথ আয়োজনে সিলেটে আয়োজিত এক গণশুনানিতে নারীদের জন্য পৃথক বাস চালুর উদ্যোগের কথা বলা হয়। তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে ‘নগর এক্সপ্রেস’ নামে নতুন বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময় বাসের পাশাপাশি নারী চালক ও সহকারী দ্বারা পরিচালিত বাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর ৪১টি বাস নিয়ে বেসরকারি পরিচালনায় ‘নগর এক্সপ্রেস’ চালু হলেও নারীদের ডেডিকেটেড সেবা অধরাই থেকে যায়।
সময়ের বিবর্তনে নগরীর প্রশাসনিক রূপরেখাতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বর্তমানে সিসিকের নির্বাচিত মেয়রের অনুপস্থিতিতে প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
২০১৯ সালের প্রতিশ্রুত প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো নথি দপ্তরে সংরক্ষিত নেই এবং নতুন কোনো উদ্যোগও এই মুহূর্তে নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে নগর এক্সপ্রেসের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা গেলে নারীদের জন্য পৃথক বাসের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি।
সিসিক সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সরাসরি প্রশাসনিক বা মালিকানাগত কোনো যোগসূত্র ছিল না।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার জানান, এমন উদ্যোগের কথা শুনলেও এর বিস্তারিত কোনো দাপ্তরিক তথ্য তাঁর কাছে নেই।
এদিকে নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা পারভিন শিকদার অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাই বর্তমানে নারীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। নগর এক্সপ্রেসে নারীদের আলাদা বাস থাকলে তাঁদের যাতায়াত অনেক বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক হতো।
সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ (সজিব) জানান, নগর এক্সপ্রেস সিসিকের নিজস্ব প্রকল্প না হয়ে পুরোপুরি একটি বেসরকারি উদ্যোগ ছিল। মালিকপক্ষের সঙ্গে বর্তমানে সিসিকের কোনো যোগাযোগ নেই এবং বাস্তবে কয়টি বাস সচল রয়েছে, সে তথ্যও যান্ত্রিক বিভাগের জানা নেই।
রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে বাসগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিনিধি/একে