রাজধানীতে গ্যাস সংকটে হোটেলে ভিড়, বাড়ছে খাবারের খরচ

দেশবার্তা প্রতিবেদক

সারাদেশ

রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। ফলে কেউ ইলেকট্রিক চুলা, কেউ লাকড়ির চুলায় রান্না

2026-08-18T20:29:57+06:00
2026-08-18T20:29:57+06:00
মঙ্গলবার ● ১৮ আগস্ট ২০২৬,
৩ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

মঙ্গলবার ● ১৮ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি ও বৈরী আবহাওয়ায় সংকট চরমে
রাজধানীতে গ্যাস সংকটে হোটেলে ভিড়, বাড়ছে খাবারের খরচ
দেশবার্তা প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। ফলে কেউ ইলেকট্রিক চুলা, কেউ লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। তবে সকালের নাস্তার জন্য অনেকেই হোটেল ও রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে একদিকে যেমন পরিবারের খাদ্য ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার সকালে বনশ্রীর এফ ব্লকের একটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, নাস্তার জন্য উপচে পড়া ভিড়। কেউ বসে খাচ্ছেন, আবার কেউ পার্সেল নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সেলিম বলেন, ‘গ্যাসের অভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে সকালের খাওয়া-দাওয়া হোটেলেই হচ্ছে। এরপর ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করে দুপুর ও রাতের খাবার সারছি। এভাবে হোটেলে খাবারের অভ্যাস না থাকলেও এখন বাধ্য হয়ে হোটেলে খেতে হচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাসের যা অবস্থা, তাতে বিকল্প উপায় ছাড়া কোনো উপায় নেই। গ্যাসে কোনো প্রকার রান্নাই করা যায় না। যে কারণে আমরা সকালে হোটেলের ওপর নির্ভরশীল। এতে যেমন খরচ বাড়ছে, তেমন পেটেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সকালে বাসায় নাস্তা হতো। কিন্তু এখন আর হয় না। কারণ বাসায় গ্যাস নেই। আমরা ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছি। কিন্তু সকালে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতেও অনীহা আছে। বাধ্য হয়ে এখন হোটেলে আসছি।’ 

চাকরিজীবী আকবর বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী দুজনই কর্মজীবী। আগে সকালে রান্না করে খেয়ে এবং দুপুরের খাবার সঙ্গে নিয়ে অফিসে যেতেন। এখন গ্যাস না থাকায় সকালে হোটেল থেকে নাস্তা কিনে খেয়ে অফিসে যেতে হচ্ছে, আর রাতে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘এতে করে আমাদের এখন খরচও বেড়েছে। চারটি পরোটা, ডিম, সঙ্গে ডাল ভাজি নিলে ১২০ টাকা খরচ। আর সঙ্গে অন্য কিছু নিলে ২০০ টাকার মতো হয়ে যায়। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত কি না, সেটাও দেখার বিষয়। অথচ বাসায় সবকিছু স্বাস্থ্যসম্মত হতো। খরচও কম হতো। মানুষ এখন উভয় সংকটে পড়েছে।’

মঞ্জুর রহমান জানান, তাঁর পাঁচ সদস্যের পরিবার প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সকালে বাসায় রান্না করা নাস্তা খেতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘আমার বাসায় স্বামী, স্ত্রী, সন্তানসহ মোট পাঁচজন। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সকালে আমরা বাসায় রান্না করা নাস্তা খেতে পারি না। হোটেলে নিয়মিত খেতে পেটেরও সমস্যা হচ্ছে। আর বাচ্চারাও খেতে চায় না। কিন্তু কোনো উপায় নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের এই সংকট নিয়ে সরকারও কোনো কথা বলে না। আমরা আর কতদিন এই ভোগান্তিতে থাকবো?’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু বনশ্রী নয়, রাজধানীর বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরাসহ তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারকারীরা এ সমস্যার বাইরে থাকলেও অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছে। নিম্ন আয়ের মানুষের অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। 

বনশ্রীর গৃহবধূ আসমা খানম বলেন, ‘আমরা এখন গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করি। গ্যাস টোটালি বন্ধ রয়েছে। বারবার ফায়ার মারলেও গ্যাস পাওয়া যায় না। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে এই দুর্ভোগ রয়েছে। এখন এমন একটা অবস্থা, গ্যাসই নেই হয়ে গেছে।’ 

রামপুরার গৃহবধূ সেলিনা আকতার বলেন, ‘গ্যাসই জ্বলে না, কী আর রান্না করবো। আগে রাতে একটু করে আসতো। কিন্তু এখন রাত-দিন সমান হয়ে গেছে। ইলেকট্রিক চুলা ছাড়া আর রান্না করা যাচ্ছে না।’ 

বাড্ডার গৃহবধূ আরিফা আক্তার বলেন, ‘লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছি আমরা। গ্যাস না থাকায় এভাবে রান্না করতে হচ্ছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষ ইলেকট্রিক চুলা কিনতে পারে না। তারা এখন এভাবেই রান্না করছে।’

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসাতেও। বনশ্রীর ‘মেহরিন হোটেল’ এর ম্যানেজার আবু বকর বলেন, ‘সকালে আগের চেয়ে একটু চাপ বেড়েছে।’ 

কেন সকালে ভিড় বেড়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে গ্যাস সংকট। বাসাবাড়িতে অনেকেই নাস্তা বানাতে পারছেন না। তাই অনেকেই হোটেল-রেস্তোরাঁমুখী।’ 

ঘরোয়া রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সুমন বলেন, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সকালে আমাদের কাস্টমার বেশি। বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণে সকালে অনেকে ঝামেলা করে নাস্তা বানাতে চান না। তারাই হোটেলমুখী হয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গ্যাস সংকটের অন্যতম কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যা এবং বৈরী আবহাওয়া। দেশের এলএনজি সরবরাহ দুটি এফএসআরইউর ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ কমে যায়। পরে গতকাল বিকেল থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অন্য টার্মিনালও স্বাভাবিকভাবে এলএনজি সরবরাহ করতে না পারায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

দেশবার্তা/একে



সর্বশেষ সংবাদ 

রাজধানীতে গ্যাস সংকটে হোটেলে ভিড়, বাড়ছে খাবারের খরচ
ম্যাচ-সিরিজ জয়ে বোনাসের পুরোনো রীতি বদলাতে চায় বিসিবি
মোরেলগঞ্জে বিদ্যালয়ে ৩ গাছ কাটার অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটি নিয়েও প্রশ্ন
সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ৪ দিন পর অপমৃত্যু মামলা
সিলেটে কাগজে বন্দি নারীদের ‘পিংক বাস’ সার্ভিস

সর্বাধিক পঠিত 

সিলেটে এসআই ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুস গ্রহণের অভিযোগ
রেলের লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ সংকট, সার্ভিস কন্ট্রাক্টে দরপত্র এড়ানোর উদ্যোগ
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত
হবিগঞ্জে বৈছাআ-এর সদস্য সচিবসহ তিনজন আটক
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]