ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রচলিত ধান, পাট ও সবজি চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই ফল চাষ সফল হলে কৃষকদের আয়ের নতুন পথ খুলবে।
সরেজমিনে উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চরদৈতরকাঠি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শতাংশ জমিতে সারিবদ্ধভাবে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে উঠছে।
জমির মালিক ও কৃষি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান সেখ জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে ২ হাজার ৫০০টি আনারসের চারা এনে বাড়ির পাশে ২০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন। ইতোমধ্যে ফল বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজনদেরও আনারস উপহার দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বাজারে পাওয়া আনারসের তুলনায় আমার বাগানের আনারস বেশি মিষ্টি। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল হিসেবে আনারস চাষ শুরু করেছি। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে আগামীতে আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
স্থানীয় কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, “বোয়ালমারীতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ নতুন উদ্যোগ। ফলন ভালো হলে অন্য কৃষকরাও এ চাষে আগ্রহী হবেন। এতে কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে এবং কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।”
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভী রহমান বলেন, “নতুন কোনো ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরুর আগে মাটি, আবহাওয়া, জাত নির্বাচন, সেচ, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কৃষকদের সঠিক ধারণা থাকা জরুরি। কৃষি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান সেখের আনারস চাষ বোয়ালমারীতে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বোয়ালমারীতে আনারস চাষ সফল হলে ভবিষ্যতে আরও কৃষক এ লাভজনক ফল চাষে যুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতাও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ