টানা ভারী বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় শহর ও দীঘিনালা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দীঘিনালা-সাজেক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
খাগড়াছড়ি আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকস্মিক ভারী বর্ষণে চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে।
পানি বেড়ে খাগড়াছড়ি শহরের কাঁচাবাজার, মুসলিমপাড়া, গরুর বাজার, শান্তিনগর ও খাগড়াছড়ি গেটসংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া দীঘিনালা উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বেয়োলখালী এলাকার নিচু অঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক বাড়িঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে।
আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতিতে বহু মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকে স্থানীয় স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-লংগদু সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ি শহর, আশপাশের এলাকা এবং দীঘিনালা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সকাল থেকেই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় নারী, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটি আকস্মিক বন্যাজনিত সাময়িক পরিস্থিতি এবং বিকেলের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ