বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার খবরে তাঁর নির্বাচনী এলাকা পলাশসহ নরসিংদীজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, ড. মঈন খান একজন অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। অতীতে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে পলাশ ও নরসিংদীর অবকাঠামো, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। নতুন দায়িত্বে তিনি দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।
পলাশ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন, ড. মঈন খান মন্ত্রী হওয়ায় পলাশবাসীর প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তির হাতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লা বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ড. মঈন খানের হাতে যাওয়ায় নরসিংদীসহ সারাদেশে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নরসিংদী আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, ড. মঈন খান মন্ত্রী হওয়া নরসিংদীবাসীর জন্য আনন্দের খবর। তিনি যেন সুস্থ থেকে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই কামনা করেন।
পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান পাপন বলেন, ড. মঈন খানকে আবারও মন্ত্রিসভায় দেখতে পারা তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন তিনি।
ড. আবদুল মঈন খান ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে ১৯৭৩ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
তিনি নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০২৫ এবং সর্বশেষ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অতীতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
ড. মঈন খানের বাবা আব্দুল মোমেন খান বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ