সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের ১৩৯নং সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা খাতুনের বিরুদ্ধে কোমলমতি এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিদ্যালয়ে ভীতি সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণ ও মারমুখী মনোভাবের কারণে শিশুটির মনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে সে বর্তমানে বিদ্যালয়ে যেতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এতিমধ্যে ওই শিক্ষিকাকে (জালেম) শিক্ষিকা বলে গ্রামের মানুষ অবিহিত করছ।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খাতুন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হন এবং তাদের ওপর নানা ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি পূর্বের অপারেশনজনিত জটিলতা ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি আমলে না নিয়ে তিনি এক শিক্ষার্থীকে ভিত্তিহীন একটি অভিযোগে নির্মমভাবে শাস্তি প্রদান করেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি যেখানে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ হওয়ার কথা, সেখানে প্রধান শিক্ষকের এমন নিষ্ঠুর আচরণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কিত হয়ে দিন কাটাচ্ছে। অতিরিক্ত ভয়ের কারণে শিশুটি বিদ্যালয়ের নাম শুনলেই শিউরে উঠছে এবং বিদ্যালয়ে যাওয়ার নাম করছে না। এতে শিশুটির শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তারা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম আরা খাতুনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বিদ্যালয়ে পুনরায় শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
দেশবার্তা/ জেএ