গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর, রাখালবুরুজ ও নাকাই ইউনিয়নের সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের শ্মশানঘাট-সংকটের অবসান ঘটিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে বারুনীতলা মহাশ্মশান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এতদিন শ্মশানঘাটের অভাবে কোনো সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু হলে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা, দুর্ভোগ ও কষ্টের মুখে পড়তে হতো। বছরের পর বছর তারা নদীর পাড়ে দাহ কিংবা মাটিতে সমাধি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ, অর্থসংকট ও নানা জটিলতায় একটি শ্মশানঘাট নির্মাণের উদ্যোগ বারবার থেমে যায়। তবে এবার সব দ্বন্দ্ব ভুলে তিন ইউনিয়নের মানুষ একসঙ্গে উদ্যোগ নেন। প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর নির্মিত বারুনীতলা মহাশ্মশান উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তাদের শেষকৃত্যের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে মহাশ্মশানটির উদ্বোধন করেন কমিটির সভাপতি নিরুপম চন্দ্র সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি দীপক কুমার কর, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলু চন্দ্র, সমাজসেবী রিকুনুর রহমান মুক্তাসহ স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যরা।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মহাশ্মশান চালু হওয়ায় স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের ভাষ্য, জীবনের শেষ বিদায়ের জন্য আর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে না, এটিই তাঁদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
প্রতিনিধি/আরএইচ