সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায়। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে সব দিক থেকে চেপে ধরতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মার্কিনিদের নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের এর বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এদিকে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। তবে তিনি সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করেননি। বেসেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলো ডলারনির্ভর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
নতুন নিষেধাজ্ঞায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকা কোনো চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এই তালিকায় রাখা হয়নি। কোন কোন দেশ পরবর্তী পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে বা নিষেধাজ্ঞা কবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি বেসেন্ট। সংশ্লিষ্ট দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন নির্দেশনা মেনে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিলে সামরিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরও কমিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল তেহরান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মোকাবিলায় তার দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত।
ইরানি অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালেও ইরানের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। চীন ও রাশিয়া ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপ মেনে নেয়নি এবং অন্য দেশগুলোর কাছ থেকেও একই ধরনের অবস্থান প্রত্যাশা করছে তেহরান।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের কৌশলগত পথগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এই সময়ে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অর্থনীতিতেও চাপ বেড়েছে। একই সময়ে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও নিহত হয়েছেন।
তবে ইরানের কাছে এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হামলা চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতাও তেহরানের রয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থাও এখনো স্পষ্ট নয়।
দেশবার্তা/এমআর