নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৬৯। অন্যদিকে চীনের তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। দুই দেশের এই স্মরণকালের দুর্যোগে এখনো দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন করে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলো থেকে হেলিকপ্টারে করে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৫৩ জনকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের অনেকেই ওই অঞ্চলে ট্র্যাকিং ও তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন।
এদিকে, বন্যার পর উজানে তৈরি হওয়া কৃত্রিম হ্রদের পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে থাকায় নতুন করে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও আনেং গ্রুপের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, হ্রদটির পানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক গতিতে নেমে আসছে এবং পানির গভীরতা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১০ মিটার কমেছে। ফলে নতুন করে আকস্মিক প্লাবনের শঙ্কা কমায় উদ্ধার অভিযানে গতি ফিরেছে।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সীমান্ত সংলগ্ন আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা। সেখানকার একটি টানেল পুরোপুরি কাদামাটিতে ঢেকে গেছে এবং ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, টানেলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ উদ্ধার করে ভেতরে আটকে পড়াদের বের করে আনাই এখন সেনাসদস্যদের প্রধান অগ্রাধিকার।
চীন সীমান্তের কাছে নেপালের টিমুর গ্রামের শুল্ক কর্মকর্তা করবির গাইরে দুর্যোগের ভয়াবহ স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন, ‘অফিসে কাজ করার সময় প্রথমে ভূকম্পন অনুভব করি। এর পরপরই একটি বিশাল কালো ঝড় ধেয়ে আসতে দেখি। মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে পাহাড়ের উঁচুতে উঠে জীবন বাঁচাই। এটি কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না, এটি ছিল যেন এক ভয়াবহ সুনামি।’
ওই সীমান্ত শহরের প্রাণবন্ত জনপদটি এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং তাঁর ১৫ জন সহকর্মী এখনো নিখোঁজ, বলেন তিনি।
নিখোঁজদের নিয়ে স্বজনদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক ও ভারতের পুদুচেরিসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিখোঁজ স্বজনের সন্ধান পেতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ভারতীয় আধ্যাত্মিক গুরু জগ্গি বাসুদেব (সদগুরু) জানিয়েছেন, তাঁদের ৭৭ জনের একটি তীর্থযাত্রী দল সীমান্তে আটকে পড়েছিল।
উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে এক হিমবাহের নিচের শিলাস্তর ধসে পড়ার কারণেই মূলত এই বিপর্যয়ের উৎপত্তি। গলিত পানি ও পাথরের প্রবল স্রোত নিচের উপত্যকার নদীগুলোকে প্লাবিত করে মুহূর্তেই জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘটনার ভয়াবহতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দুর্গত নেপালকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশবার্তা/একে