তীব্র ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে নেপালের দুর্গতরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমে জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে

2026-08-30T12:49:01+06:00
2026-08-30T12:49:01+06:00
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   ভিডিও 

সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬
চলমান বার্তা:
বিশ্ব
তীব্র ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে নেপালের দুর্গতরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম 
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমে জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত কমে আসছে। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দুর্গত এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

নুয়াকোটের ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা রেখা দেবী গোসাইনের জন্য বন্যা থেকে বেঁচে ফেরাই শেষ বিপদ ছিল না। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। বন্যায় তার ঘর ও চারটি দোকান ভেসে গেছে। গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য জিনিসপত্রও হারিয়েছেন তিনি। ফলে সঙ্গে থাকা ওষুধও রক্ষা করতে পারেননি।

এখন পরিবারের সঙ্গে ত্রিশূলী হাসপাতালের কাছে একটি আশ্রয়শিবিরে আছেন রেখা দেবী। কিন্তু হাসপাতালেও তার প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। তার ছেলে রঘুবীর বলেন, ‘আমার মায়ের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে সেগুলো নেই। তিন দিন ধরে তিনি ওষুধ খেতে পারেননি।’

ওষুধের সংকটের পাশাপাশি ওই পরিবারকে আরও বিপদে পড়তে হয়েছে। আশ্রয়শিবিরে থাকা অবস্থায় রঘুবীরের বোনের শ্বশুরবাড়ির একজন নারী প্রসববেদনায় আক্রান্ত হন। ত্রিশূলী হাসপাতালে তার প্রসব করানো সম্ভব হয়নি। আবার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাকে কাঠমান্ডুতেও নেওয়া যাচ্ছিল না। পরে বারবার অনুরোধের পর শনিবার সকালে হেলিকপ্টারে তাকে কাঠমান্ডুর পারোপকার মাতৃ ও নারী হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শুধু রেখা দেবীর পরিবার নয়, বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগীই কয়েক দিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ছাড়াই আছেন। কলানি এলাকার একটি আশ্রয়শিবিরে ৬২ বছর বয়সী মায়ের দেখাশোনা করছেন কোপিলা পারিয়ার। তার মা হাঁপানিতে আক্রান্ত এবং নিয়মিত দুই থেকে তিন ধরনের ওষুধ সেবন করেন।

কোপিলা বলেন, সব ওষুধ তারা সংগ্রহ করতে পারছেন না। শিবিরে খাবার পানিও নেই। বোতলজাত পানি কেনার মতো অর্থও তাদের হাতে নেই। কাপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসেরও সংকট রয়েছে। বন্যায় কোপিলার ১৬ বছর বয়সী ভাই অবিনাশ এবং ৪৩ বছর বয়সী ভাবি শান্তিও নিখোঁজ রয়েছেন।

হাসপাতালেও ওষুধের সংকট

ত্রিশূলী হাসপাতালেও প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত দ্রুত কমে আসছে। হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মহেশ্বর যাদব জানান, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নিয়মিত দেওয়া হয়-এমন কিছু ওষুধ, যেমন অ্যাটেনোলল ও লোসার্টান, এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিও চালু রাখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা রিকেশ রানা বলেন, আশপাশের আশ্রয়শিবিরে থাকা অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হাঁপানি রয়েছে। কিন্তু তারা নিয়মিত ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছেন না।

ওষুধের পাশাপাশি পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। বন্যায় হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকার খাবার পানির প্রধান উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি খাল থেকে আগে পানি সংগ্রহ করা হতো। বন্যায় সেই খাল ধ্বংস হয়েছে। তুপচে হয়ে আসা আরেকটি পানির পাইপলাইনও ভেসে গেছে।

রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ত্রিশূলী হাসপাতালের আশপাশে তিনটি আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হয়েছে। ভৈরুং মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আচ্ছাদিত হল ও বেথান একাডেমিতে প্রায় ১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও অসুস্থ মানুষও রয়েছেন।

কিন্তু শিবিরগুলোতে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ত্রিশূলী হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়ক রাজেন্দ্র লামা বলেন, এত মানুষ এক জায়গায় থাকায় রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপদ খাবার পানি ও পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাবে বড় ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে।

দুর্গতরা শিবিরে দেওয়া খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়েও অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে না বলে তারা জানান।

বন্যায় এলাকার সব সেতু ধ্বংস হওয়ায় ত্রিশূলী হাসপাতালের সঙ্গে জেলা সদর এলাকার যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জরুরি রোগীদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে তাই হেলিকপ্টারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের সময় সবসময় হেলিকপ্টার পাওয়া যাচ্ছে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

বন্যার পর এলাকায় নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। হাসপাতালের আশপাশে বর্তমানে মাত্র সাত থেকে আটজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান রাজেন্দ্র লামা। তার দাবি, দিনের বেলাতেও লুটপাট শুরু হয়েছে এবং আরও পুলিশ মোতায়েন করা প্রয়োজন।

লামা বলেন, শুক্রবার মুখোশ পরা চার-পাঁচজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে চিকিৎসকদের একটি অপারেশন থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পরে আশপাশের বাড়িঘরেও লুটপাট শুরু হয়েছে।

বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহেও সমস্যা হচ্ছে। এর সুযোগে কালোবাজারি শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণের পাশাপাশি ওষুধ, নিরাপদ পানি, খাবার, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে জরুরি হয়ে উঠেছে।

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

গরুর মাংস সবুজ হওয়ার রহস্য উন্মোচন
নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে
১৮ বছর পর আতিফের পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম, সঙ্গী ইয়ুমনা জায়েদি
আর্সেনাল ছেড়ে বার্সেলোনায় যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জেসুস
কদমতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ চারজন গ্রেপ্তার

সর্বাধিক পঠিত 

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় ‘উপশম প্লাস’-এর স্মার্ট টেলিমেডিসিন উদ্যোগ
কমিশন-বাণিজ্যে জিম্মি রেলের পূর্বাঞ্চল চিফ ইঞ্জিনিয়ার দপ্তর
মোরেলগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
‘ডিসক্যালকুলিয়া’ সমস্যায় অভিনেত্রী তারা সুতারিয়া
অনুমোদনের পথে আটটি ডিজিটাল ব্যাংক
বিশ্ব- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]