২০২৬ সালে অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, চলতি বছরের প্রায় প্রতি মাসেই অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মূলত মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে বেশির ভাগ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এসব মৃত্যুদণ্ডের বেশির ভাগ কার্যকর হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইসফাহানের দাস্তগের্দ কারাগারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, অনেক আসামি যথেষ্ট আইনি সহায়তা পাননি। অনেক পরিবারও তাদের স্বজনের মামলা বা পরিণতি সম্পর্কে ঠিকমতো জানতে পারেনি।
সাম্প্রতিক একটি মামলায় ইসফাহানের ‘আলিখানি স্কয়ার’ ঘটনায় দুই আফগান চাচাতো ভাই গোল মোহাম্মদ মোহাম্মাদি ও কায়েম হোসেইনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে এই মামলার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে আফশার শাহ-আহমাদি, ইমান শাফায়ি ও সদরউদ্দিন আহমাদজাদেহ নামে তিন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
তবে ইরানে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ দেশটিতে অনেক মৃত্যুদণ্ডের খবর সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় না।
মানবাধিকার সংগঠন হেংগাওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
এদিকে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে তালেবান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা আফগান নাগরিকদের জন্য তালেবান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
দেশবার্তা/এমআর