চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং কারাবন্দি ডেভিড ইমনের সহযোগী মো. মোবারক ওরফে 'গলাকাটা মোবারক'-কে ধরতে গিয়ে ফলস ছাদ থেকে ছোঁড়া সন্ত্রাসীদের ৬টি গুলির মুখে প্রায় ১০ মিনিট শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে পড়েন হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাত তিনটার দিকে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পাল্লানপাড়া এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত ও একাধিক মামলার আসামি 'কালা মোবারক'সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রথমে মোবারকের তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। পরে বাড়ির ওয়াশরুমের ফলস ছাদে মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করেন পুলিশ সদস্যরা।
পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে ফলস ছাদের ভেতর থেকে পরপর ছয়টি গুলি ছোড়েন মোবারক। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।
একপর্যায়ে সপ্তমবার গুলি ছোড়ার চেষ্টা করলে তাঁর অস্ত্রটি আটকে যায়। তবে অস্ত্র আটকে গেলেও মোবারক ফলস ছাদের ভেতর থেকে সেটি তাক করে রাখেন।
এ সময় মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে অবস্থান নেন পুলিশ সুপার কাজী তারেক আজিজ ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান ও তাঁর দলের সদস্যরা। টানটান উত্তেজনার মধ্যে তাঁরা বারবার মোবারককে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, অভিযানের শুরুতেই মোবারকের তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। তবে মোবারক তখনও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির ফলস ছাদের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন। পরে তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরই ফলস ছাদের ভেতর থেকে মোবারক পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। একের পর এক গুলি ছুটে আসছিল পুলিশের দিকে। কখনো গুলি আঘাত করছিল পাকা দেয়ালে, কখনো বিকট শব্দে আছড়ে পড়ছিল লোহার কপাটে। মুহূর্তেই পুরো বাড়িজুড়ে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় আমিও আহত হই। জীবনহানির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সাথে অবস্থান ধরে রাখেন। গুলির মুখে পিছু না হটে কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শেষ পর্যন্ত ফলস ছাদ থেকে মোবারককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তাঁরা।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান বলেন, যেকোনো মুহূর্তে গুলি ছুটে আসতে পারে এমন শঙ্কার মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট কেটে যায়। পুলিশ সদস্যরা তাঁকে (মোবারক) আশ্বস্ত করেন, অস্ত্র সমর্পণ করলে তাঁকে গুলি করা হবে না।
পুলিশের সাথে মোবারকের কৌশলী কথোপকথনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত তিনি অস্ত্র সমর্পণে রাজি হন।
তিনি আরও বলেন পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও শ্বাসরুদ্ধকর। তবে পুলিশ সদস্যদের সাহস, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।
প্রতিনিধি/আরএইচ