নীলফামারী সদর উপজেলার ১১ নং সোনারায় ইউনিয়নের সোনারায় চক দুবুলিয়া গ্রামের ডাঙ্গাপাড়ায় বিয়ের দাবিতে এক কিশোরীর অনশনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) থেকে একই এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন মশিউর রহমানের মেয়ে মোসলেমা আক্তার (১৫)।
কিশোরী মোসলেমার দাবি, আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। বর্তমানে তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেছেন। তবে তার গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সরেজমিনে জানা যায়, বিয়ের দাবিতে আব্দুল্লাহর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন মোসলেমা আক্তার। কিশোরীর দাবি, আব্দুল্লাহ তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি বিয়েতে সম্মতি না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন মোসলেমা।
মোসলেমার ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল্লাহ সবসময় কথা বলার জন্য তাকে একটি মুঠোফোন উপহার দেন। ওই মুঠোফোনের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্ক গভীর হলে আব্দুল্লাহ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একাধিকবার যৌন সম্পর্কের ফলে তিনি বর্তমানে গর্ভবতী হয়েছেন বলেও দাবি করেন কিশোরী।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে মোসলেমা আক্তার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তাদের দুজনের কারওই বিয়ের আইনগত বয়স হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার দাবি সত্য হলে তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। কিশোরীর করা অভিযোগের সত্যতা, তার গর্ভধারণের বিষয়টি এবং সংশ্লিষ্টদের বয়স সম্পর্কে সরকারি বা চিকিৎসা সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ