কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি ডিপফেক, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুল তথ্য তৈরি, অনলাইন প্রতারণা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের মতো নানা ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই তথ্য যাচাই না করে কোনো নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং তা বড় ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনউদ্যোগ, খুলনার কর্মশালার বক্তারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) খুলনার ঢাকাইয়া বিয়েবাড়ির সেমিনার কক্ষে ‘প্রজন্মের মেলবন্ধনে সুরক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে জনউদ্যোগ, খুলনার উদ্যোগে ‘এআই এবং তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহার’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যক্ষ মাজাহারুল হান্নান এবং পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জনউদ্যোগ, খুলনার আহ্বায়ক ও শিক্ষক নেতা মানস রায়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্রনাথ সেন। এআই ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন আইসিটি শিক্ষক জয় বৈদ্য। এ ছাড়া বক্তব্য দেন শিক্ষক দেবদাস মণ্ডল, নারী নেত্রী নূরুন নাহার হিরা, কৃষ্ণা দাস ও দীপ বৈদ্য।
বক্তারা বলেন, তথ্যের উৎস যাচাই না করে বা ভুয়া খবর পরীক্ষা না করে কোনো নির্দেশ দেওয়া উচিত নয়। কোনো খবর পেলে সেটি নির্ভরযোগ্য মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইটের তথ্য এড়িয়ে চলতে হবে। একাধিক মাধ্যমে তথ্য ক্রস-চেক করতে হবে এবং প্রয়োজনে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজ নিতে হবে। ফ্যাক্ট-চেক ওয়েবসাইটের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করলে সত্যতা যাচাই সহজ হয়। সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড না করারও পরামর্শ দেন তারা।
বক্তারা বলেন, মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে কাজ করে, এআই তা কয়েক সেকেন্ডেই করতে পারে। হিসাব-নিকাশ ও তথ্য বিশ্লেষণে এআই তুলনামূলক কম ভুল করে। এটি ক্লান্ত হয় না এবং বিশ্রামেরও প্রয়োজন হয় না। রোগ শনাক্তকরণ, সার্জারি, ওষুধ তৈরি, তথ্য অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত শিক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও খনি অনুসন্ধানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তারা আরও বলেন, এআই ও রোবট ব্যবহারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যেতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। এআই মানুষের অনুভূতি পুরোপুরি বুঝতে পারে না। ডেটা ভুল হলে সিদ্ধান্তও ভুল হতে পারে। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি সাইবার আক্রমণ, প্রতারণা ও ভুয়া তথ্য ছড়াতেও এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে পারে।
অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, এআই ও তথ্যপ্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থেকে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত আইন সম্পর্কেও জ্ঞান অর্জন জরুরি।
প্রতিনিধি/আরএইচ