বাগেরহাটের শরণখোলায় দারুস সুন্নাহ নামে একটি আবাসিক মাদ্রাসায় মো. আজিজুল (৭) নামে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পড়া না পারার কারণে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শিশুটিকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।
গুরুতর আহত শিশুটিকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
আহত আজিজুল উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের পশ্চিম খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদারের ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, হাফিজি পড়ানোর জন্য আজিজুলকে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে পড়া না পারায় শিক্ষক কামরুল ইসলাম তাকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ পড়ে। মারধরের পর ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতেও পারছিল না বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
শিশুটির মামাতো ভাই রাকিবুল আকন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দুই দিন পার হলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো খোঁজ নেয়নি। এমনকি তাকে চিকিৎসা দেওয়া বা পরিবারকে জানানোরও কোনো উদ্যোগ না নিয়ে বিষয়টি গোপন রাখা হয়।
রাকিবুল আরও বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ম অনুযায়ী দুই সপ্তাহ পরপর বৃহস্পতিবার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকালে বাড়িতে আসে আজিজুল। তাকে গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে শিক্ষক কর্তৃক মারধরের কথা জানায়। পরে তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ বলেন, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সে আশঙ্কামুক্ত।
অভিযোগের বিষয়ে দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধেও প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ