মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এমন একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে গুম, অত্যাচার ও নির্যাতন থাকবে না। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের ভেন্যু পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি দীর্ঘ ১৮ বছর গুম, খুন ও নির্যাতন বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও গুম ও খুনের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি নিজে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু গণতন্ত্র ও দেশের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি।
মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সারা দেশে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালন করা হবে। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদেরকে এ দিবস পালন করতে দেয়া হয়নি। এখন সুস্থ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশপ্রেমিক সরকারের উদ্যোগে আমরা দিবসটি সফলভাবে পালন করব বলে আশা করছি।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা দেশের মানুষকে বার্তা দিতে চাই, দেশে গুমের দিন শেষ হয়ে গেছে। ভয়াবহ সেই কালো অধ্যায় অতিক্রম করে আমরা একটি ন্যায়বিচারের দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আর কখনো দেশে সংঘটিত হতে দেয়া যাবে না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। অতীতে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোরও বিচার হবে এবং সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে দেশে যে রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল এবং এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দুই হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে তারা জেলে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাদের বিচার হবে।
দেশবার্তা/এমআর