ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজটে আটকে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্সে আমিরুন্নেছা নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হৃদ্রোগে আক্রান্ত ওই নারীকে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান আমিরুন্নেছা। তিনি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আমিরুন্নেছার স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাত ৮টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সটি তীব্র যানজটে আটকা পড়ে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা যানবাহন প্রায় স্থবির থাকায় শেষ পর্যন্ত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সড়ক সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এ যানজটের সৃষ্টি হয়। শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্তও যানজট অব্যাহত ছিল।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়া যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন স্থির থাকায় প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকেই খাবার ও পানির সংকটে ভুগেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী মুজাহিদ পরিবহনের যাত্রীরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন তারা। সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আমিরাবাদে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
সুরমা পরিবহনের চালক রিপন মিয়া বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এখানে সংস্কারকাজ হলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আশরিয়ারচরে ঢাকামুখী লেনে সংস্কারকাজ শুরুর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট এখনো রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ কমাতে হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।’
দেশবার্তা/একে