কয়েক মিনিটের আগুনে শেষ হয়ে গেল বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা। কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা বাসস্টেশনের নিউ জামাল মার্কেটে মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনে কয়েকটি শোরুম, গ্রামীণ ব্যাংক, হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের হিসাবে, আগুনে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মালামাল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তবে এ হিসাব প্রাথমিক। তদন্ত ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে মার্কেটের ছেহের মিয়ার রং ও হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। প্রথমে একটি দোকানে আগুন দেখা গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য রং, হার্ডওয়্যার সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা দোকান থেকে মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেক দোকানে ঢোকার সুযোগও পাননি ব্যবসায়ীরা। ফলে চোখের সামনে পুড়ে যায় বিপুল পরিমাণ মালামাল।
পরে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও একটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়। দুই ইউনিটের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন।
অগ্নিকাণ্ডে মালেক সওদাগরের ওয়ালটন ও ভিশনের দুটি শোরুম, গ্রামীণ ব্যাংক, ছেহের মিয়ার রং ও হার্ডওয়্যারের দোকান, জাবেরের দোকান এবং মোহাম্মদ আলমের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, ব্যবসায়ী আবু বক্কর আল মাসুদ ও বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বাহাদুর শাহ তপু বলেন, আগুনে ১০ থেকে ১৫টি দোকানের মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বেশির ভাগ দোকান থেকে মালামাল বের করার সুযোগ পাননি ব্যবসায়ীরা।
নিউ জামাল মার্কেটের মালিক মোহাম্মদ জামাল হোসাইন বলেন, মার্কেটের দোকানগুলো এবং ওয়ালটন-ভিশনের শোরুমের মালামালসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা হতে পারে বলে তাঁদের প্রাথমিক ধারণা।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে একটি রঙের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাত ১২টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে থেকে আগুনের অবশিষ্ট স্ফুলিঙ্গ রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন। আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনও আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পুরোনো দাবি নতুন করে সামনে
নিউ জামাল মার্কেটের আগুন শুধু ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হিসাবই সামনে আনেনি, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের পুরোনো দাবিটিও নতুন করে জোরালো করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে হ্নীলা এবং হোয়াইক্যং গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস সুবিধা সীমিত থাকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লেগে যায়। আগুনের শুরুতেই ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে পারলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি অনেক ক্ষেত্রেই ঠেকানো সম্ভব বলে মনে করেন তাঁরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি, হ্নীলা ও হোয়াইক্যংয়ের মাঝামাঝি সুবিধাজনক স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে দুই ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও দ্রুত জরুরি সেবা পাবেন।
তাঁদের মতে, আগুন নেভানোর পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্যও এই স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের দাবিটি বাস্তবায়নে দ্রুত সরকারি উদ্যোগ চান স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি/আরএইচ