হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার (সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, লীলা কীর্তন, শ্রীকৃষ্ণের পূজা এবং পূজান্তে প্রসাদ বিতরণ। এসব কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখা।
জেলা কালীবাড়ি মন্দির চত্বর থেকে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করেন গোপাল পাল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন।
জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিমল সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) সুমঙ্গল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিরতী রঞ্জন সরকার, সাধারণ সম্পাদক সুজন প্রসাদ, প্রফেসর সমীরন কুমার সরকার, ইসকন জেলা সাধারণ সম্পাদক বিমল সরকার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি বাপ্পা সাহা ও প্রমতোষ সাহা, সংগঠনের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অভিজিত দাস অভি, মানিক চৌহান, অর্জুন রায়, নরৎ চন্দ্র ব্রহ্মচারী এবং রাকেশ কুমার দে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব রঞ্জন সাহা।
বক্তারা বলেন, “আমরা পবিত্র জন্মাষ্টমী উদযাপনের জন্য এখানে সমবেত হয়েছি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য যুগে যুগে অবতার রূপে ঈশ্বর পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরার কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মাধ্যমে আমাদের কর্মের শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয় এবং অহংকার ত্যাগ করে মানবতার কল্যাণে কাজ করা যায়। বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি।”
প্রতিনিধি/আরএইচ