লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার কলারোয়ার শুভ দাসের মরদেহ মৃত্যুর তিন মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরেছে। রোববার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের মরদেহ কলারোয়া উপজেলার কয়লা ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো শুভকে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো কফিনবন্দি হয়ে।
শুভ দাস শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাসের ছেলে। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় প্রায় তিন বছর আগে লেবাননে যান তিনি। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো বাবা এবং ধানের চাতালে কাজ করা মা ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলার জেবদিন এলাকায় রুটি বহনকারী একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই শুভ দাসসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত অন্য দুজন হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম ও আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ। তারা একই এলাকায় বসবাস ও কাজ করতেন।
চার ভাই-বোনের মধ্যে শুভ ছিলেন মেজো। পরিবারের অভাব দূর করে স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় মাত্র ২৩ বছর বয়সেই প্রাণ হারাতে হয় তাঁকে।
শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ কয়েক মাস আগেই দেশে ফিরলেও শুভর মরদেহ ফিরতে সময় লাগে। অবশেষে রোববার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা বলেন, ২০২৩ সালে জমি-জায়গা বিক্রি করে শুভ লেবাননে যান। ১২ মে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোববার সকালে শুভর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছেছে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর সৎকারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।