আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে নিজেদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। একই দিনে ভোটার এলাকা বদলেছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে দলটির সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম।
দলীয় সূত্র জানায়, জোটগত সমীকরণ দূরে সরিয়ে রেখে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। ১১ দলীয় জোটের ওপর নির্ভর না করে দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে পূর্ণ শক্তিতে লড়াইয়ের কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই তিন নেতা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
স্থানান্তরের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে সরে এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তরের উত্তরা এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ঢাকা দক্ষিণের ঢাকা-৮ আসনের আওতাভুক্ত এলাকায় ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হয়েছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের অংশীদারদের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। ফলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে এনসিপি। সম্পূর্ণ একক শক্তিতে সারাদেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও স্থানীয় সব পর্যায়ে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
প্রার্থীর যোগ্যতা ও ভিন্নধর্মী ইশতেহারের ওপর ভর করে দল ভালো ফল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
জোটের বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পরিকল্পনা নেই। জোটের অন্যরাও একই বক্তব্য দিচ্ছেন, তাই এখানে টানাপড়েনের কোনো শঙ্কা দেখছি না।’
পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে কারও পক্ষে প্রার্থী প্রত্যাহারের সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এনসিপি নেতৃত্ব। তাদের মতে, প্রতীকের বাধ্যবাধকতা না থাকায় স্থানীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে এবং নাগরিকরা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রার্থীর যোগ্যতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবেন।
দেশবার্তা/একে