যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন ধ্বংস করতে নানা চক্র ষড়যন্ত্র চালালেও তা কখনো সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের নবগঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আমাদের এই মৃত্তিকার গভীরে আছে আমাদের সম্প্রীতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, আমাদের ভ্রাতৃত্ব। আমরা একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যেকেই একটি জাতিসত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নানা ধরনের শক্তি এবং নানা ধরনের চক্রান্তকারীরা আমাদের এই অটুট বন্ধন, ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন ও মেলবন্ধনকে ধ্বংস করার জন্য, এটাকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালায়।’
ষড়যন্ত্রের মাঝেও সম্প্রীতি রক্ষায় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ দাবি করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাস করছে। একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে সবাই অংশ নিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেয়।
জাতীয় দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এটা একসঙ্গে সেই বন্ধন চর্চিত হবে, লালিত হবে এবং এই কারণেই আমাদের যে জাতীয় দর্শন-বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেইটাই আমাদের ধারণ করায়।’
এই জাতিসত্তার দার্শনিক কাঠামোর বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘প্রত্যেকেরই এখানে আসন পেতে পারে। প্রত্যেকেরই এখানে জায়গা আছে। প্রত্যেকেই নিজে গর্বভরে বলতে পারে যে আমরা বাংলাদেশি। এই গর্বভরে বলার যে দার্শনিক তত্ত্বটা, সেটা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিয়েছেন।’
দলে অসাম্প্রদায়িক চর্চার কথা উল্লেখ করে রিজভী জানান, বিএনপিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের যোগ্য ও কীর্তিমান ব্যক্তিত্বরা নেতৃত্বে রয়েছেন। তারা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং সার্বজনীন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কল্যাণ ট্রাস্টের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, দেবালয় ও উপাসনালয়গুলো যাতে সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় এবং পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রার্থনা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে নবগঠিত এই ট্রাস্ট।
তিনি আরও বলেন, ‘সেই লক্ষ্যে যে তিনটি সম্প্রদায়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কামনা করি, এই ট্রাস্ট স্ব স্ব সম্প্রদায়ের প্রত্যেকটি বিষয়, তাদের নিজস্ব যে সমস্ত করণীয় আছে, সে করণীয়গুলো তারা করবেন, তারা সেটি দেখবেন এবং সেটিকে পূর্ণতা দান করার জন্য সচেষ্ট থাকবেন।’