দেশে এখনো কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। তবে সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নিয়ে পরে বডি পরিবর্তন করে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস বানিয়ে সড়কে চালানো হচ্ছে। এমন ৪১টি বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
হাইকোর্টের নির্দেশনায় গঠিত বিআরটিএর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
২০২৫ সালে অননুমোদিত স্লিপার এসি বাস চলাচলের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। পরে আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্লিপার বাস বিষয়ে একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিআরটিএ ওই কমিটি গঠন করে।
বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে প্রধান করে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন উপপরিচালক এ. এস. এম. কামরুল হাসান এবং সদস্যসচিব ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. মঈনুল ইসলাম।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিআরটিএ এখন পর্যন্ত কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দেয়নি। তবে ডাবল-ডেকার (স্লিপার নয়) হিসেবে মোট ৮২৯টি বাসের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে কমিটি দেখতে পায়, কয়েকটি বাস সিঙ্গেল ডেকার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার পর মালিকেরা সেগুলোকে ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসে রূপান্তর করেছেন। এসব বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে ৪১টির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সড়কে চলাচলরত তিনটি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। অননুমোদিত বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময়ে সময়ে পুলিশ বিভাগকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
কমিটি জানায়, ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের জন্য বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নীতিমালা নেই। এ কারণে বিআরটিএ এ ধরনের বাসের অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে না। অনুমোদিত কোনো ডাবল-ডেকার স্লিপার বাস না থাকায় সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রযোজ্য নয়।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী বর্তমানে শুধু সিঙ্গেল ডেকার বাসের অনুমোদন ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হচ্ছে। ডাবল-ডেকার স্লিপার বাসের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় গাইডলাইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
দেশবার্তা/এমআর