রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারালেন নান্দাইলের মামুন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

জাতীয়

উচ্চ বেতনের চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার যুবক মামুন মিয়া (২৫)। পরে ইউক্রেনীয়

2026-09-10T15:54:32+06:00
2026-09-10T15:54:32+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
জাতীয়
রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারালেন নান্দাইলের মামুন
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম 
উচ্চ বেতনের চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার যুবক মামুন মিয়া (২৫)। পরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা ও সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী।

মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় গত ৭ মে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সির মাধ্যমে ইলেকট্রনিক শ্রমিক হিসেবে কাজের জন্য রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন মামুন। এ জন্য এজেন্সির সঙ্গে তার সাড়ে আট লাখ টাকার চুক্তি হয়। তার সঙ্গে আরও প্রায় ৩০ জনের একটি দল ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর চার দিনের মাথায় এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট একটি পাচারকারী চক্র মামুনসহ ওই দলের যুবকদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।

মামুনের সঙ্গে থাকা ঝিনাইদহের রাজন মিয়া মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি ড্রোন হামলায় মামুন নিহত হন। ওই হামলায় রাজন নিজেও গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে দেশে ফেরেন বলে জানান তিনি।

মামুনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

বুধবার দুপুরে মামুনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা ঘরের সামনের উঠানে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা রোকেয়া খাতুন ও স্ত্রী মহিমা আক্তার। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজনও তাদের বাড়িতে ভিড় করেন।

মামুনের স্ত্রী মহিমা আক্তার বলেন, “গত ২৬ আগস্ট স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। তখন মামুন জানিয়েছিল, সে যুদ্ধে আছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে এসে ওয়াই-ফাই সংযোগ করে কথা বলতে হয়েছিল। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। মরদেহ কীভাবে দেশে আনব, সেটাও জানি না। সরকারের কাছে আমার স্বামীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।”

মামুনের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, “সংসারের সচ্ছলতা ফেরানোর জন্য চার মাস আগে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ ও ধার করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখনও কারও টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। সমিতির লোকজন টাকা নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছে। একমাত্র সন্তানের এমন করুণ পরিণতি হবে, ভাবতেও পারিনি। দুই নাতিকে কীভাবে বড় করব, তাও বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বাচ্চু বলেন, “ছেলেটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।”

স্বজনদের অভিযোগ, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে যুবকদের যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তারা অভিযুক্ত এজেন্সি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে মামুনের মরদেহ দ্রুত সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

দেশবার্তা/এমআর


সর্বশেষ সংবাদ 

বিশ্ববাজারে সুনামের সঙ্গে রপ্তানি হচ্ছে দেশের খাদ্যপণ্য: খাদ্যমন্ত্রী
রাজ কাপুর বিশেষ সম্মাননা পেলেন রানি মুখার্জি
ধারাবাহিক পতনে শেয়ারবাজার
রাজশাহীতে সেনাসদস্য রিফাতের দাফন সম্পন্ন
হ্যাকিং নিয়ে এমপিদের সতর্ক করলেন চিফ হুইপ

সর্বাধিক পঠিত 

লাইফ সাপোর্টে মেঘমল্লার বসু
এআইয়ের সাহায্যে যেভাবে তৈরি করবেন আশির দশকের ছবি
বাঁধনকে সব ধর‌নের সহায়তা কর‌বে সরকার
প্রকাশ্যে এলো রাহুল-শ্রদ্ধার রোমান্টিক মুহূর্ত
নিহত সেনাসদস্য পিয়াস মাত্র কয়েকদিন আগে সন্তানের বাবা হয়েছেন
জাতীয়- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]