ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এবার সরব হয়েছে ফ্রান্স। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোতে, বিশেষ করে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাকে ঘিরে ইনফান্তিনোর ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। একই সঙ্গে ফিফার প্রশাসন যন্ত্রে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইনফান্তিনোর বিরোধিতায় ইউরোপের সাতটি দেশ এক কাতারে দাঁড়ালো। এর আগে ইংল্যান্ড, ইতালি, উত্তর আয়ারল্যান্ড, রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস ইনফান্তিনোকে সমর্থন না করার কথা জানিয়েছিল।
অথচ গত জুনেই তৃতীয়বার ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড়ে ইনফান্তিনোকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিল এফএফএফ। পরে ফিফার প্রতিযোগিতায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর অবস্থান বদলায় ফ্রান্স।
ইনফান্তিনোর ওই পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এমনকি ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দেয়। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফ ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার কনমেবল ও আফ্রিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিএএফ এখনো তার পাশে রয়েছে।
এর মধ্যেই ফিফা নিশ্চিত করেছে, আগামী মার্চে সভাপতি নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হবেন ইনফান্তিনো।
ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে ফুটবলে এত বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো প্রকল্প- পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরামর্শ এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ছাড়া বিবেচনা করা উচিত নয়। ফিফার প্রশাসন ব্যবস্থা ফুটবল যে মানদণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
ইনফান্তিনো তার বিনিয়োগ পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও ফ্রান্স মনে করছে, তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি।
ফিফার সংস্কার নিয়ে এবার কনফেডারেশন, জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং শাসনব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে ফ্রান্স। তাদের লক্ষ্য, ফিফার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা বাড়ানো, আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ফিফার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ, এর নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
দেশবার্তা/এমআর