কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র দুটি সংগঠনের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সতর্ক করতে ক্যাম্পে মাইকিং করা হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উখিয়ার হাকিম পাড়া ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
জামতলী ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, ক্যাম্পে শনিবার দিবাগত রাতে সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা হঠাৎ গুলি চালায়। গুলির শব্দে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে মাইকিং করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের সচেতন ও সতর্ক করা হয়।
রহমত উল্লাহর ভাষ্য, যতটুকু তিনি জানতে পেরেছেন, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও) সদস্যরা গুলিবর্ষণ করেছে। ক্যাম্পে আরএসও ও আরসা—এই দুই গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার ও শক্তি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে প্রায়ই গোলাগুলিতে জড়ায় বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ আজিজ বলেন, রাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। মাইকিংয়ে বলা হয়, ‘আপনারা সবাই ঘুম থেকে উঠে যান, সবাই নিজ নিজ ঘরের দরজার সামনে সতর্ক হয়ে বসে থাকেন। এখানে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে।’
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি কয়েক দিন ধরে চলছিল। হাকিম পাড়া ক্যাম্প আরএসও অধ্যুষিত এবং জামতলী ক্যাম্প আরসা অধ্যুষিত। দুটি ক্যাম্প পাশাপাশি অবস্থিত। রাতে আরএসওর লোকজন জামতলী ক্যাম্পে আক্রমণের চেষ্টা করে ভয়ভীতি দেখায়। বিশেষ করে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, দুই গ্রুপের সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এসব সংগঠনের সদস্যদের কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এর আগেও জামতলী ও হাকিম পাড়া ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
দেশবার্তা/এমআর