সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল টাকা পরিশোধে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বরের কারণে গ্রাহকদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা কমাতে আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর টাকা পাঠানোর আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের সমন্বয়ে চালু হচ্ছে এই অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস)। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের লেনদেনকে আরও নিরাপদ ও নির্ভুল করাই এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টির লেনদেন জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
যেভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা
এতদিন সঞ্চয়পত্র কেনার সময় গ্রাহক যে ব্যাংক হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই সরাসরি ব্যবস্থায় যুক্ত করা হতো। নম্বরের কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে টাকা পাঠানোর সময় ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটি ব্যর্থ হয়ে অর্থ ফেরত আসত। এরপর তথ্য সংশোধন করে আবার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হতো।
নতুন ব্যবস্থায় এই সমস্যা আগেই শনাক্ত করা যাবে। গ্রাহক ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে যাচাই করা হবে হিসাবটি সঠিক ও সচল কি না। এরপর হিসাবধারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে হিসাবটি প্রকৃত গ্রাহকের কি না।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে যাচাই করা হবে। ফলে টাকা পাঠানোর আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
৩৯ লাখের বেশি গ্রাহক
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের অনলাইন ব্যবস্থায় বর্তমানে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইএফটির মাধ্যমে গ্রাহকদের মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।
এত বিপুলসংখ্যক লেনদেনের মধ্যে ব্যাংক হিসাব নম্বরের ভুলের কারণে অর্থ ফেরত গেলে একদিকে গ্রাহককে অপেক্ষা করতে হয়, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও ব্যাংককে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। নতুন যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে লেনদেনের আগেই ভুল শনাক্ত হওয়ায় এ ধরনের জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিসাব পরিবর্তনেও হবে যাচাই
শুধু নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় নয়, পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করলেও এভিএসের মাধ্যমে হিসাব যাচাই করা হবে। ফলে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ ভুল হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মতে, এ ব্যবস্থা চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাবের কারণে ইএফটি ফেরত আসার ঘটনা কমবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের ভোগান্তি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজও কমে আসবে।
অর্থ পৌঁছাবে নিরাপদে
অর্থ বিভাগের মতে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকায়নে এভিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ব্যাংক হিসাব যাচাই করে অর্থ পাঠানোর ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল অর্থ নির্ধারিত গ্রাহকের সঠিক হিসাবে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য হবে।
বিশেষ করে প্রবীণ ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয়পত্র গ্রাহকদের জন্য ভুল হিসাব নম্বরের কারণে অর্থ আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা কমানো গেলে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় আস্থা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে সঞ্চয়পত্রের অর্থ পরিশোধের আগে হিসাব যাচাই বাধ্যতামূলক হওয়ায় ভবিষ্যতে ভুল তথ্যের কারণে লেনদেন ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশবার্তা/এমআর