সামাজিক মাধ্যমে সাফল্যের গল্পগুলোকে প্রায়ই মনে হয়- একটি ভিডিও, রাতারাতি তারকাখ্যাতি আর মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত। তবে পর্দার আড়ালে থাকে বছরের পর বছর চেষ্টা, অসংখ্য ব্যর্থতা আর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার নিরন্তর লড়াই। জনপ্রিয় ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট, যার আসল নাম জিমি ডোনাল্ডসন, সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের এই পেছনের বাস্তবতার কথাই তুলে ধরেছেন।
পেশাগত জীবনে বড় সাফল্য পেতে শুধু প্রতিভা বা ভালো ধারণা থাকলেই চলে না মন্তব্য করে ডোনাল্ডসন জানান, নিজের কাজকে নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করার মানসিকতা এবং বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তাও প্রয়োজন।
তার মতে, সাফল্যের পথ কখনোই সরলরেখায় এগোয় না। কোনো কাজ দর্শকের মন জয় করার আগে একাধিক ভুল, ব্যর্থ প্রচেষ্টা ও সংশোধনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কী ভালো হচ্ছে এবং কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে- নিজের কাজের দিকে নির্মোহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই উন্নতির প্রথম ধাপ।
নিজের এই দর্শনের পেছনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান এই মার্কিন ইউটিউবার। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় কিশোর বয়সে গেমিং ও বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্যধর্মী ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করতেন তিনি। প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি বোঝার চেষ্টা করতে করতে ধীরে ধীরে নিজের কনটেন্টের ধরন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। শুরুতেই সেরা কাজটি করে ফেলার চাপ না নিয়ে প্রতিটি উদ্যোগকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধারাবাহিকতার উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালের একটি ভাইরাল ভিডিওর কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে তিনি টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে ১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত গুনে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার মধ্য দিয়ে তার পরিচিতি নতুন মাত্রা পায়। তবে এই সাফল্যকে নিছক ভাগ্যের ফল হিসেবে দেখেন না ডোনাল্ডসন; বরং এর পেছনে ছিল দর্শক কী পছন্দ করেন, তা বোঝার জন্য বছরের পর বছর ধরে চালানো পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
সেই ধারাবাহিক উন্নতির পথ ধরেই তার উদ্যোগের পরিসর বিস্তৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার দাতব্য কার্যক্রমভিত্তিক উদ্যোগ ‘বিস্ট ফিলানথ্রপি’, স্ন্যাকস ব্র্যান্ড ‘ফিস্টেবলস’ এবং প্রতিযোগিতামূলক সিরিজ ‘বিস্ট গেমস’।
বক্তব্যের সারসংক্ষেপে তিনি জানান, শুরুতেই বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হবে এমন নয়। বরং প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের সাহস আর ধারাবাহিক পরিশ্রমই একসময় প্রাথমিক প্রচেষ্টাকে বড় অর্জনে পরিণত করতে পারে।
দেশবার্তা/একে