জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’ এ অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করা মার্কিন অভিনেতা আরজে মিটে মারা গেছেন। ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে মারা গেছেন এই অভিনেতা। স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলমান রয়েছে।
আরজে মিটের মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছে তার পরিবার ও প্রতিনিধিরা। বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানান, প্রিয় অভিনেতা, জনহিতৈষী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার কর্মী আরজে মিতের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সর্বকালের অন্যতম সেরা টিভি সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’ এ মূল চরিত্র ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের (ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র) ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন আরজে মিটে। বাস্তবেও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ায় চরিত্রটিতে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখান তিনি। এই সিরিজে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য ২০১৪ সালে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিটে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’।
তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শোক জানিয়েছেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে তার অনস্ক্রিন বাবার চরিত্রে অভিনয় করা ব্রায়ান ক্র্যানস্টন। তিনি লেখেন, ১৪ বছর বয়সে সিরিজটিতে যুক্ত হওয়া মিটে ধীরে ধীরে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করে ক্র্যানস্টন লেখেন, সেরিব্রাল পালসিকে তিনি কখনো কোনো কিছুর অজুহাত বানাননি।
সিরিজের আরেক তারকা অ্যারন পলও শোকবার্তায় তাকে স্মরণ করে বলেন, আরজে, বন্ধু, তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে খুব মিস করব।
১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট মিসিসিপির জ্যাকসনে জন্ম নেওয়া আরজে মিটের পুরো নাম রয় ফ্রাঙ্ক মিটে তৃতীয়। জন্মের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের স্বল্পতাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি এবং তিন বছর বয়সে তার সেরিব্রাল পালসি ধরা পড়ে। শৈশবেই বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছে বড় হন মিটে। ১৩ বছর বয়সে তার মা প্যারালাইজড হয়ে গেলে অসুস্থ মা ও ছোট বোনকে নিয়ে পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে।
কিশোর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে টুকটাক কাজের পর অডিশনের মাধ্যমে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ সুযোগ পান তিনি, যা তার জীবন বদলে দিয়েছিল। এরপর ‘হানা মন্টানা’, ‘ভেগাস’, ‘সুইসড অ্যাট বার্থ’, ‘রোবোট চিকেন’, ‘দ্য ক্লোজ’সহ বিভিন্ন সিরিজ এবং বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই অভিনেতা।
দেশবার্তা/একে