উন্নত জীবন ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ইতালিতে পাঠানোর নামে দুই যুবকের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগে কামাল হোসেন নামে এক মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রের বরাতে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী বাদী ও তাঁর পরিচিত এক যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয় একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্র। এতে প্রত্যেকের সঙ্গে ৩০ লাখ টাকা করে চুক্তি হয়। চুক্তি মোতাবেক তারা বিভিন্ন ধাপে আসামিদের ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৬ মে তাদের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির রোমগামী বিমানে তুলে দেওয়া হয়। তবে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির শেনজেন ভিসাটি ভুয়া ও জাল বলে শনাক্ত করে।
এরপর ইতালির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে দুদিন পর, অর্থাৎ ২৮ মে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে ভুক্তভোগীরা বিস্তারিত জানিয়ে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তভার পেয়ে সিআইডি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত কামাল হোসেনকে শনাক্ত করে। পরে রোববার রাতে বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কামাল হোসেন মানবপাচার এবং জাল ভিসা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তকরণ, অবৈধ অর্থ লেনদেনের রুট ও বণ্টন সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশবার্তা/আইএসই/একে