বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরি ও ওয়ার্কিং ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর টেকনিক্যাল এলাকায় ২০ জনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি আটজনকে তুলনামূলক দরিদ্র বিবেচনায় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছেন আদালত।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর টেকনিক্যাল এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবির কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আশপাশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জাল ভিসার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাঁচজনকে জরিমানা করা হয়েছে। বাকি আটজন তুলনামূলক দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের ক্ষেত্রে আদালত ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আটক ব্যক্তিদের কয়েকজনের ‘জিয়ার সৈনিক’ পরিচয় দেওয়া এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত থাকার দাবি নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা গ্রেপ্তারের পর নিজেদের বাঁচাতে নানা ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তাঁদের কেউ কেউ ‘জিয়ার সৈনিক’ বলে স্লোগান দিয়েছেন। আবার কেউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় থাকার কথাও বলেছেন।
এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, দুই-একজন স্লোগান দিচ্ছিল তারা ‘জিয়ার সৈনিক’। তো এগুলো স্লোগান দিয়ে, ‘এখানের কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় আছে’—এ সব পরিচয় দিয়ে আর কোথায় কী হবে জানি না। এসআরবির কাছে এগুলো পরিচয় দিয়ে লাভ নেই।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ করার সময় কাউকে আটক করা হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্য কারও সঙ্গে কোথায় পরিচয় রয়েছে, সেটি তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। অপরাধের দায় এড়াতে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের বক্তব্য নেওয়ার কথা নয়। কেউ আলাদাভাবে বক্তব্য নিয়ে থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার বিধান নেই বলে জানান তিনি।
বিদেশে চাকরি ও কাজের ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে