গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে একটি মন্দিরের ভেতরে পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দেওয়ার অভিযোগে মো. ইউসুফ আলী (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর ছেলেকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থানার আমবাগ এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কেন্দ্রীয় মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ইউসুফ আলী তাঁর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি মন্দিরের প্রতিমার সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। পরে নিজের ব্যাগ থেকে একটি পবিত্র কোরআন শরিফ বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় মন্দিরের নিরাপত্তাকর্মী ও সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। পরে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কেন্দ্রীয় মন্দিরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল কর্মকার বলেন, আট থেকে দশ বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ইউসুফ আলী মন্দিরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তিনি কোরআন শরিফে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। এর আগেও তিনি একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ইউসুফ আলী কয়েক বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাঁর চিকিৎসা বা মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর মন্দির ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিনিধি/আরএইচ