বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাগেরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন শরণখোলার কৃতী সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আফজাল হোসাইন। ১১ সদস্যের কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন একই উপজেলার সদর রায়েন্দা বাজারের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হেমায়েত উদ্দিন বাদশা। শরণখোলার দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা জেলা ইউনিট কমান্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম আফজাল হোসাইন বলেন, ভারতের সিংভূমের চাকুলিয়ায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তিনি যুদ্ধকালীন সুন্দরবন সেক্টরের সাব-সেক্টরের হয়লাতলা প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এবং পরে ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত শরণখোলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০২৫ সালে গঠিত বাগেরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন এম আফজাল হোসাইন। তিনি আরও জানান, বাগেরহাট জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম আজাদের মৃত্যুর কারণে জেলা ইউনিট কমান্ডের পুনর্গঠিত অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান।
অপর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হেমায়েত উদ্দিন বাদশা জানান, তিনি সুন্দরবন সাব-সেক্টরের স্টুডেন্ট ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিজয়ের শেষ মুহূর্তে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা বাজারের পূর্ব প্রান্তে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে পাঁচ দিনের সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি। এ যুদ্ধে গুরুপদ, আলতাফ, টিপু সুলতান ও আলাউদ্দিন শহীদ হন।
তিনি ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত শরণখোলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ