গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ রেলস্টেশনে রেললাইনের ওপর বসছে কৃষিপণ্যের অস্থায়ী বাজার। রেললাইনের ওপর ও দুই পাশে বসে কৃষকেরা শাকসবজিসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য বিক্রি করছেন। প্রতিদিন এ বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় জমলেও ট্রেন চলাচলের পথে এমন বেচাকেনা তৈরি করছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একাধিকবার অভিযান চালিয়েও বাজারটি স্থায়ীভাবে সরানো না যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রেনযাত্রী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কাওরাইদ রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইনের ওপর ও আশপাশে পসরা সাজিয়ে বসেছেন সবজি বিক্রেতারা। কেউ বিক্রি করছেন কাঁচামরিচ, কেউ বেগুন, লাউ, কুমড়া ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কোথাও বস্তা ও ঝুড়িতে, আবার কোথাও কাপড় বা পলিথিন বিছিয়ে সাজানো হয়েছে কৃষিপণ্য। এসব পণ্য কিনতে রেললাইনের ওপর ও আশপাশে ভিড় করছেন ক্রেতারাও।
গ্রামীণ জীবিকার সঙ্গে যুক্ত এ বাজারে কৃষকেরা সহজেই তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। ক্রেতারাও হাতের নাগালে পাচ্ছেন তাজা সবজি। তবে রেললাইনের ওপর বেচাকেনা চলায় ট্রেন আসার সময় দ্রুত সরে যাওয়া, যাত্রীদের চলাচল এবং নিরাপদে ট্রেনে ওঠানামা নিয়ে তৈরি হচ্ছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাসেদ বলেন, “রেললাইনের ওপর সবজির বাজার বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা স্থানীয়ভাবে সবজি ব্যবসায়ীদের রেললাইনের ওপর বাজার না বসানোর জন্য নিষেধ করেছি। কিন্তু তাঁরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও বাজার বসাচ্ছেন। এ কারণে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বাজারের কারণে ভোগান্তির শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এক ট্রেনযাত্রী। কালাম মিয়া বলেন, “রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেন আসতে দেখে দ্রুত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সবজির বাজারের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে যাই। ট্রেনে উঠতে গিয়ে পায়ে মারাত্মক ব্যথা পাই। রেললাইনের ওপর বাজার না থাকলে হয়তো দ্রুত ট্রেনে উঠতে পারতাম। এভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে পায়ে আঘাত পেতে হতো না।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান বলেন, “কাওরাইদে রেললাইনের ওপর সবজির বাজার বসানো নিষিদ্ধ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় সেখানে বাজার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার রেললাইনের ওপর বাজার বসানো হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে না এলে আমাদের পক্ষে এ বাজার সরানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
রেললাইনের ওপর বাজার বসানোর কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ট্রেন চলাচলের সময় বিক্রেতা ও ক্রেতাদের অসতর্কতা প্রাণহানির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে রেলপথে চলাচলকারী যাত্রীরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য রেললাইনের বাইরে নিরাপদ ও নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের জীবিকা নির্বাহ সহজ হবে, অন্যদিকে কমবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
কাওরাইদ রেলস্টেশন এলাকায় নিরাপদ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলে রেললাইনের ওপর থেকে সবজির বাজার সরানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রতিনিধি/আরএইচ