বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার প্রদান ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে পিরোজপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পিরোজপুর শহরের শহীদ ওমর ফারুক সড়কে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ডের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান ও যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফনের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক চান বলেন, একজন মৃত ব্যক্তির পরকালীন পরিণতি নির্ধারণের অধিকার মানুষের নেই; এটি সম্পূর্ণ আল্লাহর বিষয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর বিষয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে আহমেদ শহিদুল হক চান মানিক পশারীর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর বড় ভাই শহীদ ফজলুল হক খোকন সুন্দরবন এলাকার মধ্য দিয়ে নৌপথে শরণার্থী ও প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর উদ্যোগে রয়জুদ্দিন পশারিসহ মানিক পশারী ওই কাজে যুক্ত হন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরবর্তী সময়ে সুন্দরবন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের কার্যক্রম পরিচালনার সময় সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন তাঁদের পুনরায় তাঁর অধীনে অন্তর্ভুক্ত করেন বলে দাবি করেন আহমেদ শহিদুল হক চান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের সময় মানিক পশারীকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা শ্রেণি বিলুপ্ত হওয়ার পর তাঁর স্বীকৃতি ও গেজেটভুক্তির বিষয়টি পরিবর্তিত হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক সোলাইমান মল্লিক, জেলা কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রাজ্জাক সরদার, জেলা কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান ধরানী, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী সরদার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা।
প্রতিনিধি/আরএইচ