সুন্দরবনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। তবে অভিযানের সময় দস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের বনদস্যুদের নির্মূল ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, খুলনার কয়রা থানার অধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় দুর্ধর্ষ ডাকাত সাত্তার বাহিনী কয়েকজন জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি করে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে সেখানে অভিযান চালায়। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা জিম্মি জেলেদের ফেলে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জিম্মি অবস্থায় থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। তাঁরা সবাই খুলনার কয়রা থানার বাসিন্দা।
অন্যদিকে, পৃথক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুলনার দাকোপ থানার অধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় একটি ডাকাত দল অবস্থান করছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবারের বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ০.২২ ক্যালিবারের বন্দুকের ৫২ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া পাঁচ জেলেকে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে তারা আশাবাদী।
প্রতিনিধি/আরএইচ