আজ সকাল দশটার দিকে মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এর আয়োজনে ও গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগিতায় 'অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা:অংশীজনের প্রত্যাশা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আমঝুপি কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মেহেরপুর জেলার সহকারী পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র ও জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাহীম, স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানব উন্নয়ন কেন্দ্র (মউক) এর নির্বাহী প্রধান আশাদুজ্জামান সেলিম, লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযান এর কার্যক্রম কর্মকর্তা সিজুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভার মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার কার্যক্রম ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মউক এর সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ও মানবাধিকার কর্মী সাদ আহমেদ।
সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর শারমীন পারভীন, সমাজকর্মী দিলারা জাহান, মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এসএম মোহাইমিনুল ইসলাম, শিক্ষক শরিফুল ইসলাম মিঠু ও ফজলুল হক, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী শেখ মনিরুল হুদা, অভিভাবক রুপালী খাতুন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সাদিয়া আফরোজ, এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সাংবাদিক আবুল লায়েচ লাবলু ও অভিভাবক আল আমিন হোসেন।
অংশগ্রহণকারীরা সুপারিশ হিসেবে বলেন, সব উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিদ্রুত মিড-ডে মিল চালু করতে হবে; শিশুদের বইয়ের বোঝা কমিয়ে খেলাধুলাসহ আনন্দমুখী শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তির আগে মোটিভেশন দেওয়া, সহায়ক যন্ত্রপাতি (হুইলচেয়ার, শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র, সাদা ছড়ি ইত্যাদি) প্রদান করা, প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা, বেদে, যৌনকর্মী ও হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের ভর্তি নিশ্চিতে আন্তরিক হওয়া।
সুপারিশ হিসেবে বলেন উপানুষ্ঠানিকের জন্য স্থায়ী শিক্ষা কার্যক্রম থাকতে হবে, ঝরে পড়া রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা, বাল্যবিবাহ রোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা, ঝরে পড়া রোধে অভিভাবকদের সচেতন করা, নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া, রাজনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ব্যাপারে সচেতন হওয়া, উপবৃত্তির অর্থ বৃদ্ধি করে ন্যুনতম ৫০০ টাকা প্রদান করা, স্কুলের সময়সীমা পুনর্বিবেচনা করা, মাধ্যমিক স্তরে অন্তত একটি করে ট্রেড চালু করা, কৃষি শিক্ষার অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলকভাবে গরু, ছাগল হাঁস মুরগী পালনে উদ্বুদ্ধ করা, এসএসসি ও এইচএসসির মতো মাদ্রাসার দাখিল ও আলিমে একই মার্কে পরীক্ষা নেয়া, ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করা, স্কুল পরবর্তী সময়ে শিখন ঘাটতি পুরণে আলাদা ক্লাস নেয়া।
সুপারিশ হিসেবে বলেন, কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়া, কোচিং ও গাইড নির্ভরতায় কমানোয় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, ভর্তির জন্য স্বচ্ছ লটারী পদ্ধতি নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পরিকল্পনা করা, শিক্ষার্থীদের ডিভাইস আসক্তি কমাতে স্কুলে খেলাধুলার গুরুত্ব দেয়া, স্কাউটিং ও হলদে পাখি কার্যক্রম সক্রিয় রাখা, স্লিপ কার্যক্রমের অর্থ বৃদ্ধি করা এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন করা।
সভায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মীসহ অর্ধশতাধিক অংশীজন অংশগ্রহণ করেন।
দেশবার্তা/জেএ