রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় তিন দিনব্যাপি নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। মৃগী ইউনিয়নের বড় কলকলিয়া সেতু এলাকায় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নৌকাবাইচ দেখতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ জড়ো হয়। তাদেও সবার মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস। মুখে ছিল উৎসবের আমেজ। এদের কেউ এসেছে বন্ধুদেও সঙ্গে। কেউ পরিবারের সঙ্গে। কেউ এসেছে বাবার হাত ধরে। বিপুল পরিমান দর্শকের উপস্থিতিতে নৌকা বাইচ এলাকা উৎসবমূখর হয়ে উঠে। নৌকার মাঝিরা প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গান গেয়ে পুরো এলাকা মাতিয়ে তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, আমাদের এলাকা নিচু এলাকা। একারণে বর্ষার মৌসুমে প্লাবিত হয়। এছাড়া এসময় মানুষের হাতে কাজকামও কম থাকে। এসব কারণে মানুষ নৌকা বাইচে মেতে উঠে। তবে নৌকা বাইচে শুধু এই এলাকা নয়, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। একইভাবে প্রতিযোগিতা দেখতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ভীড় জমায়। এটি এই এলাকায় একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
দ্বীন মোহাম্মদ নামের আরেক দর্শক বলেন, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাইচ দেখতে এসেছি। ওরা খুব উপভোগ করেছে এবং আনন্দ পেয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম মাদক ও মোবাইল ফোনে আসক্ত। আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন খেলাধূলা আয়োজন করতে হবে। তাহলে নতুন প্রজন্ম মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দুরে থাকবে। এধরনের আয়োজন বেশি বেশি করা প্রয়োজন।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এসময় বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান মন্ডল, মিজানুর রহমান, জসিম মোল্লা, আনিছুর রহমান কাঞ্চন, হিমেল রহমান, সবুজ মল্লিক, রাশেদ বিশ্বাস ও সাবু মণ্ডল প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নৌকা প্রথম পুরস্কার হিসেবে পান একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় পুরস্কার টেলিভিশনসহ আরও বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়।