রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে হামলা সময় পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন- গোয়ালন্দ উপজেলার দেওয়ানপাড়া গ্রামের আফজাল সরদারের ছেলে শাফিন সরদার (১৯), বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে হিরু মৃধা (৪০), দক্ষিণ উজানচর গ্রামের আক্কাস মৃধার ছেলে মাসুদ মৃধা, দেওয়ান পাড়া গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক জনি (৩২) ও কাজীপাড়া গ্রামের আরিফ কাজীর ছেলে অপু কাজী (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গোয়ালন্দের নুরা পাগলার আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের উপরও হামলা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাতে থানার এসএই সেলিম বাদী হয়ে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট গোয়ালন্দের পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরা পাগল বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। ওই দিন দরবারে এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে প্রথম জানাজা ও ভক্তদের অংশ গ্রহণে দ্বিতীয় জানাজা পড়ানো হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাটি থেকে কয়েকফুট উঁচুতে তাকে দাফন করা হয়। এরপর থেকেই এলাকাবাসী ও আলেম সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কাবা শরীফের আদলে মাটি থেকে কয়েক ফুট উপরে দেওয়া এই কবর সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। গত বুধবার জেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে শরিয়ত বিরোধী কবর দেওয়ার প্রতিবাদে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখান থেকে শুক্রবার বাদ জুমা ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঈমান আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে বিক্ষুব্ধ জনতা গোয়ালন্দে নুরা পাগলার আস্তানায় হামলা চালায়। প্রথমে ভক্তবৃন্দের সাথে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে দু’পক্ষের কমপক্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়। এরপর নুরা পাগলার বাড়ির গেইট ভেঙে প্রথমে বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তারপর সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা যায়। একপর্যায়ে কবর থেকে মরদেহ তুলে কফিনসহ গোয়ালন্দের পদ্মামোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপর নিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।