নামে উপজেলা গুইমারা, কিন্তু নেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। খাগড়াছড়ির এই জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাটি এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। সরকারি সুযোগ-সুবিধার ছোঁয়া না পেয়ে স্থানীয়রা ভোগ করছেন চরম দুর্ভোগে।
গুইমারাবাসী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবিতে গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাজপথে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আল্টিমেটাম দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের (ভারপ্রাপ্ত) স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক (উপসচিব) নাজমুন আরা সুলতানা ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবেরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, সহ-সভাপতি ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা, গুইমারা উপজেলার শিক্ষক ও সমাজসেবক মো. ইউচুপ, শিক্ষক বাবলু হোসেন, স্থানীয় প্রতিনিধি অংগ্য মগ, মাহবুব আলী, গুইমারা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আলী, সাইফুল ইসলাম, আলা উদ্দিন আরিফ, আরমান হোসেন, দিদারুল আলম বাবুল, জাহাঙ্গীর আলমসহ অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা একটি জনবহুল ও দুর্গম এলাকা। এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেন। দুঃখজনকভাবে ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর গুইমারা উপজেলা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও দূরবর্তী উপজেলা, জেলা সদর বা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়।
ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক রোগী মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন, অনেকে মৃত্যুবরণও করছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বর্তমানে গুইমারার ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও নেই পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক। ফলে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে ভুল চিকিৎসা, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারসহ নানা কারণে কেউ কেউ স্থায়ী অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুবরণও করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ অবস্থায় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—দ্রুত একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হোক।
অন্যদিকে, উন্নয়নশীল এই গুইমারা উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন দপ্তরের পরিধি ক্রমেই বাড়লেও এখনো অগ্নি নির্বাপণের জন্য ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ স্টেশন স্থাপন করা হয়নি। ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অন্য উপজেলা বা জেলা সদর থেকে সহায়তা নিতে হয়।
এরই মধ্যে উপজেলাটিতে বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস না থাকায় সময়মতো ব্যবস্থা নিতে না পেরে সর্বস্ব হারিয়েছেন বহু মানুষ।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত ‘গুইমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’ ও ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’ স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনগণ মৌলিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সেবা থেকে আর বঞ্চিত না থাকে।
প্রতিনিধি/একে