স্বাস্থ্যকর্মীদের ইচ্ছেমতো চলছে মধুখালীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়ম, দেরিতে আসা ও অসময়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায়

2025-11-16T14:29:05+06:00
2025-11-16T14:29:05+06:00
বৃহস্পতিবার ● ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
 ইপেপার   আর্কাইভ   ভিডিও 
চলমান বার্তা:
সারাদেশ
স্বাস্থ্যকর্মীদের ইচ্ছেমতো চলছে মধুখালীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো
মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২৯ পিএম 
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনিয়ম, দেরিতে আসা ও অসময়ে চলে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)–নির্ভর এসব ক্লিনিক সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী উপজেলায় মোট ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিকে মাত্র একজন করে সিএইচসিপি দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন পরিচালিত এসব ক্লিনিকের উদ্দেশ্য ছিল গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের মেজাজমর্জি অনুযায়ী ক্লিনিক পরিচালিত হওয়ায় সেই লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে মেগচামী ইউনিয়নের নরকোনা রুপসী কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল সাড়ে ১০টায় গেলে দেখা যায়, ক্লিনিকটি বন্ধ। 

স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব জানান, দশটার পরপরই আপা আসে। 

ওষুধ নিতে আসা কুনূ বিশ্বাস ক্লিনিক বন্ধ থাকায় রাস্তার পাশে বসে অপেক্ষা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী সুজন সকাল দশটা চল্লিশ মিনিটে এসে নানা অজুহাত দেখান। 

একই ইউনিয়নের মেগচামী ক্লিনিকেও একই চিত্র—বেলা ১টা ১৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিক বন্ধ। 

নিকটবর্তী দোকানদার রাশিদা বেগম বলেন, এইমাত্র পলি আপা চলে গেল।

আরেক ব্যবসায়ী হাসেম জানান, নয়টা থেকে তিনটা পর্যন্ত থাকার নিয়ম—এটা আমরা জানি। কিন্তু আজও সোয়া একটা থেকেই বন্ধ।

কড়কদি ইউনিয়নের মোল্লাডাঙ্গি ও খোদাবাসপুর কমিউনিটি ক্লিনিকেও একই ধরনের অনিয়ম দেখা যায়। 

সন্তান নিয়ে ক্লিনিকের পাশে অপেক্ষমাণ ইরানি জানান, মুন্তাহার আপা এতো তাড়াতাড়ি চলে গেছে। দেড়টা বাজে ক্লিনিক বন্ধ, মোবাইল নম্বরও নেই।

স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেন, ডাক্তাররা দুপুর একটা পরে ক্লিনিকে পাওয়া যায় না।

কামারখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ডাবলু মোল্লা বলেন, অসুস্থতার কারণে ক্লিনিকে গেলে প্রকৃত সেবা পাওয়া যায় না। ডাক্তার কিছু সময় থাকে, সরকারি ওষুধ দিয়ে দ্রুত চলে যায়। ফলে শিশু, নারী ও প্রবীণদের জরুরি সেবা পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। ক্লিনিক বন্ধ থাকলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়, যা অনেকের জন্যই কষ্টকর।

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মামুন জানান, আমরা ইতোমধ্যে এসব অনিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। স্বাস্থ্যকর্মীদের জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছে। যথাযথ দিকনির্দেশনার মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই ক্লিনিকগুলো নিয়মিত, সময়মতো পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।



সর্বশেষ সংবাদ 

নিউইয়র্কে তিন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, কূটনৈতিক সমীকরণের কোন বার্তা?
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
মোরেলগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু, হত্যা নাকি আত্মহত্যা তদন্তে পুলিশ
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সমাবেশ ও মিছিল
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণ নিহত

সর্বাধিক পঠিত 

এনসিপির রাজশাহী জেলা কমিটির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
২২ বছর পর বাবার স্বপ্নের হাসপাতাল উদ্বোধন করলেন গণপূর্তমন্ত্রী
নিউইয়র্কে তিন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ, কূটনৈতিক সমীকরণের কোন বার্তা?
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র
রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণ, সাটুরিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
সারাদেশ- এর আরো খবর 
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী তোফায়েল আহমদ।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক অফিস: গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম একে খন্দকার সড়ক, মহাখলী বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১২১২।
www.thedailydeshbarta.com
Mobile: 01816-185722, Email: [email protected]