ফেনীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল মোড়কে নিম্নমানের চিপস বাজারজাত এবং পণ্যের মোড়কে মেয়াদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ না করার অভিযোগে মেসার্স আহাদ ফুড প্রোডাক্টসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে ফেনী সদর উপজেলার রামপুর হাইওয়ে এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আহাদ ফুড প্রোডাক্টস বাজার থেকে নিম্নমানের চিপস কিনে এনে পোড়া তেলে ভাজছিল। পরে এসব চিপস পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে বিভিন্ন প্রচলিত ব্র্যান্ডের নকল মোড়কে প্যাকেট করে বাজারজাত করা হচ্ছিল।
অভিযানে নরসিংদীর দেশবন্ধু গ্রুপের ‘হাটবিট চিপস’, মানিকগঞ্জের সুপার ফুডের ‘মৌসুমী চিপস’, ছাগলনাইয়া বিশ্বরোডের ঠিকানায় আলম ফুডের ‘বারবিকিউ মাসালা চিপস’সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত নকল মোড়কের রিল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ‘ছুটি’, ‘সততা’ ও ‘জসিম’সহ বিভিন্ন নামের মোড়কও পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ‘খুকি রিংস চিপস’ নামে একটি পণ্যের বিএসটিআই অনুমোদন রয়েছে। তবে সেই অনুমোদনের বাইরে বিভিন্ন প্রচলিত ব্র্যান্ডের নামে প্যাকেট করে পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল। উৎপাদিত শিশুখাদ্যের মোড়কে মেয়াদসহ প্রয়োজনীয় তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া শিশুদের জন্য প্রস্তুত চিপসের প্যাকেটের ভেতরে খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের খেলনা দেওয়া হচ্ছিল।
এসব অনিয়মের অভিযোগে মেসার্স আহাদ ফুড প্রোডাক্টসকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৭ ও ৪৪ ধারায় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে নকল মোড়কের রিলগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইকবাল হোসেন লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে অনুমোদনহীন মোড়কে পণ্য বাজারজাত না করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি নিজস্ব অনুমোদিত ব্র্যান্ডের মোড়কে মেয়াদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ এবং শিশুদের খাবারের প্যাকেটে প্লাস্টিকের খেলনা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, নকল মোড়কে নিম্নমানের চিপস বাজারজাত ও প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ