নেত্রকোনার খালিয়াজুরী-প্রসাদপুর সড়কের কাদিরপুরকান্দা এলাকার চিতাখলা খাল অংশে প্রায় চারশ ফুট জুড়ে সড়ক ভাঙনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে কৃষ্ণপুর ও খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের অন্তত ২০ হাজার মানুষের নিত্যযাত্রা চরম দুর্ভোগে নিমজ্জিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত সাব-মার্জেবল এ সড়কটি নির্মাণের মাত্র তিন মাসের মাথায়ই বর্ষার সামান্য পানির তোড়ে ভেঙে পড়ে।নিম্নমানের কাজ করার কারণেই এমন ভঙ্গুর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। কিন্তু পরের বছরই সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। এরপর বরাদ্দ না থাকায় এ পর্যন্ত কোনো মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
এ সড়ককে শুধু কয়েকটি গ্রামের চলাচলপথ বললে ভুল হবে; এটি সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের অন্যতম একটি বিকল্প সংযোগ সড়ক হিসেবেও ব্যবহৃত হয়- এমনটি জানিয়ে দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার সম্পাদক ও কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ফারুক তালুকদার বলেন, খালিয়াজুরী-প্রসাদপুর সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। হাওর এলাকার বৃহত্তর যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সড়কটির সংস্কার করা জরুরি।
বর্তমানে ভাঙন স্থানে এখন চলাচল করতে হচ্ছে একটি ছোট ফেরি নৌকার মাধ্যমে। এতে একসঙ্গে ৭-৮ জনের বেশি উঠতে পারেন না। ফেরিটি সামান্য নড়াচড়া করলেও ডুবে যাওয়ার ঝঁকি থাকে।
কাদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা রবীন্দ্র সরকার বলেন, ২৩ নভেম্বর আমার ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়–য়া স্বচ্ছ সরকার বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় ফেরি ডুবে ভিজে গেছে। এমন ঝঁকি নিয়েই প্রতিদিন মানুষ উপজেলা সদরে যাচ্ছে।
‘খালিয়াজুরী হেল্পলাইন’ নামের স্থানীয় একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন সোহান-বিন-নবাব লিখেছেন, কাদিরপুর, রৌয়াইল, যোগীমারা, আদাউড়া, মজিবনগর, মমিননগরসহ কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামের মানুষ খালিয়াজুরী উপজেলা সদরে যেতে ভয়ানক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সরকারি নজরদারির অভাবই এর মূল কারণ।
খালিয়াজুরী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আওলাদ হোসেন জানান, খালিয়াজুরী-প্রসাদপুর সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশই এখন মেরামতের প্রয়োজন। গত অর্থবছরে সড়ক সংস্কারের প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম গত বুধবার বিকেলে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, চিতাখলা অংশে আপাতত মানুষের চলাচল সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হবে। আর স্থায়ী সমাধানের জন্য খুব দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ