গণভোটের দায়িত্ব কেবল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একার নয়—সব রাজনৈতিক দলকেই এ দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
তিনি বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমেই বহু রাজনৈতিক দলের জন্য সংসদে যাওয়ার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে—যে সম্ভাবনা জন্মলগ্ন থেকে তাদের ছিল না, এমনকি রাষ্ট্রের ৫৪ বছরেও যা অর্জিত হয়নি। এর মধ্য দিয়েই একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
মঙ্গলবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, গণভোটের প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নেই। পরিবর্তন চাইলে সংস্কারের পক্ষেই দাঁড়াতে হবে।
“আমরা দুর্নীতির বাংলাদেশ চাই না, আমরা সুশাসনের বাংলাদেশ চাই। সেই লক্ষ্যেই একটি শক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তুলতে চাই,”—বলেন তিনি।
তার ভাষায়, সরকার ও রাজনৈতিক দল আসবে-যাবে, কিন্তু স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের নীতিমালা বারবার বদলে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, এবার সময় এসেছে গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার। এতে কোনো একটি দল যুগের পর যুগ রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ পাবে না। তবে যাঁরা এসব সংস্কারের সঙ্গে একমত নন, তাঁদেরও মত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার থাকবে।
“সরকার কাউকে জোর করে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বাধ্য করছে না,”—স্পষ্ট করেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবেই এবং সেই লক্ষ্যেই সরকারের কার্যক্রম এগোচ্ছে। এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রতিনিধি/একে