ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে সর্বস্তরে জনপ্রিয় করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহজে ক্যাশলেস লেনদেনে অন্তর্ভুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা মার্চেন্ট ফি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে ক্ষুদ্র ও প্রথাগত বিক্রেতাদের যেকোনো কেনাকাটায় লেনদেনের বিপরীতে কোনো বাড়তি ফি গুনতে হবে না।
শুধু ফি মওকুফই নয়, ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি সফল লেনদেনের বিপরীতে উল্টো আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ারও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (পিএসপি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ ও গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নির্দিষ্ট হারে নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে। প্রণোদনার প্রণীত কাঠামো অনুসারে, প্রতি ১০০ টাকা লেনদেনের বিপরীতে ‘একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান’ (যে ব্যাংকের বা এমএফএসের মার্চেন্ট) পাবে ১০ পয়সা এবং ‘ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান’ (যে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটা যাবে) পাবে ২০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ক্যাশলেস বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুযোগ চালু করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের দোকানদার, ভাসমান বিক্রেতা ও ছোট সেবা প্রদানকারীদের জন্য ইতিপূর্বে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারে মার্চেন্ট ফি একটি অন্যতম মানসিক বাধা হিসেবে কাজ করত।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে একদিকে তাদের অতিরিক্ত খরচ সম্পূর্ণ বেঁচে যাবে, অন্যদিকে আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
দেশবার্তা/একে