অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের আসল মেয়াদের তারিখ অপসারণ করে নিজেদের তৈরি স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ফেনীর ‘মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত তদারকি অভিযানের অংশ হিসেবে মহিপালের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের সোনালী ব্যাংক ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টা থেকে হাজারী রোড, মহিপাল, লালপোল, ফতেহপুর ও হাজীর বাজার এলাকায় নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি করা হয়। এ সময় কাঁচামরিচ, ডিম, সবজি, গ্যাস সিলিন্ডার ও সুগন্ধি চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য যাচাই করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে মহিপালের মেসার্স তুহিন এন্টারপ্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি ও অক্সিজেন সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের বোতল থেকে আসল উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ অপসারণ করছে। পরে সেখানে নিজেদের তৈরি স্টিকার লাগিয়ে বিক্রির দিন থেকে পরবর্তী এক বছরের মেয়াদ দেখিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অথচ শোরুমে থাকা অবস্থাতেই এসব পণ্যের মেয়াদ কয়েক মাস থেকে এক বছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
এ ছাড়া, নিজেরা রিফিল না করেও অন্যের কাছ থেকে রিফিল করে আনা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে নিজেদের স্টিকার ও মেয়াদের তারিখ বসানোর সত্যতাও পাওয়া যায়।
মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট এ ধরনের জালিয়াতির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশাসনিকভাবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক মাঈনুল ইসলাম তুহিন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন।
অভিযান চলাকালে অন্যান্য ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয় এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।
সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় এ ধরনের তদারকি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ